ইসলাম

খোশ আমদেদ মাহে রমযান!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুমিনের জন্য রমযানুল মুবারক আল্লাহ তা’আলার মহা অনুগ্রহ। এই মাস মুমিনের জন্য বয়ে আনে অফুরান কল্যাণ। তাই একজন মুমিন রমযানের অপেক্ষায় থাকবে, রমযান লাভের আশা করবে এটাই স্বাভাবিক। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও রমযান আগমনের প্রহর গুণতেন। রমযান লাভের জন্য দুআ করতেন। হযরত আনাস রা. বলেন, রজব মাস এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন :

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَب وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ

হে আল্লাহ! আমাদের রজব ও শা’বানে বরকত দিন এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।

[মুসনাদে আহমদ ১/২৫৯; শো’আবুল ঈমান লিলবায়হাকী ৩/৩৭৫; গবেষক আলেমদের দৃষ্টিতে হাদীসটি ‘যয়ীফ’, তবে ফযীলতের ক্ষেত্রে আমলযোগ্য]

একজন মুমিনের স্বভাব এমনই। সে রমযানের প্রতীক্ষায় থাকবে। দুআ করবে। মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। এরপর যখন মুমিন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের এ বাণী শোনে-

الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ

পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমুআ থেকে আরেক জুমুআ ও এক রমযান থেকে আরেক রমযান তার মধ্যবর্তী সময়ের (পাপের) জন্য কাফ্ফারা, যদি কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত থাকা হয়। [সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৩৩]

এ হাদীস শুনে একজন মুমিন রমযানের প্রতি আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে, আল্লাহর কাছে দুআ করবে, রমযানকে স্বাগত জানাতে উদগ্রীব হবে, এটাই স্বাভাবিক। আর তাই রমযানকে স্বাগত জানানোর প্রথম আমল হল রজব থেকেই এ দুআ পাঠ করতে থাকা। এরপর শা’বান মাসে অধিক পরিমাণে রোযা রাখা। রমযানের প্রস্তুতি হিসেবে শা’বান মাসে অধিক পরিমাণে রোযা রাখার কথা অনেক হাদীসে এসেছে। যেমন :

عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ : كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ، وَلَمْ أَرَهُ صَائِمًا مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ مِنْ شَعْبَانَ، كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ، كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلا قَلِيلا.

আবু সালামা রহ. বলেন, আমি আয়েশা রা.কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযা (রাখার নিয়ম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এভাবে রোযা রাখতে থাকতেন যে, আমরা (মনে মনে) বলতাম, রোযা রাখতে থাকবেন (হয়ত আর ছাড়বেন না)। আবার কখনো রোযা ছাড়তে থাকতেন। আমরা (মনে মনে) বলতাম, আর (হয়ত) রোযা রাখবেন না। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শা’বান মাসের চেয়ে অন্য মাসে অধিক রোযা রাখতে দেখি নি। কখনো পুরো শা’বান রোযা রাখতেন। কখনো অল্প কিছু দিন ছাড়া পুরো শা’বান রোযা রাখতেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৫৬]

Facebook Comments

Leave a Reply