আরোইসলাম

যেভাবে গড়বে একটি সফল কর্মজীবন : পদ্ধতি ও পরামর্শ (পর্ব-১)

সফল কর্মজীবন গড়ার চাবিকাঠি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

​আমীর হামযাহ

কর্মজীবন। জীবনের একটি অধ্যায়। সবচে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফুটিয়ে তুলতে হয় নিজেকে। নিজের ব্যক্তিত্ব। যোগ্যতা ও সফলতা। সক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা। সবকিছু। সফল কর্মজীবনের মানে এটিই। তবে কর্মজীবনে সফল হওয়া অসম্ভব নয়। অতটা কঠিনও নয়। সম্ভব। সাধ্যাধীন। কিছু বিষয় লক্ষ রাখতে হবে। মেনে চলতে হবে। আশা করছি নিম্নোল্লিখিত বিষয়গুলো সহায়ক হবে। এর আলোকে গড়া যাবে একটি সফল কর্মজীবন।

১. ইখলাস ও আশাবাদ

একনিষ্ঠতা। আল্লাহর জন্য করা। অন্য কিছু লক্ষ্য না থাকা। ভিন্ন কিছু কামনা না করা -দ্বীনী কাজে সফলতা ও পূর্ণতার অপরিহার্য শর্ত। এছাড়া সবই ব্যর্থ। সবই অর্থহীন। নিয়তের পরিশুদ্ধতা এজন্যই ইবাদতে শর্ত। এটি ইসলামের শিক্ষা। বড় শিক্ষা। হাদীসুন্নিয়্যাহতে এটিই শেখানো হয়েছে। ইখলাসের সাথে থাকবে আশাবাদ। ইতিবাচক চিন্তা। পারবই। হবেই। আল্লাহ অবশ্যই তাওফীক দিবেন। হাদীসে তাফাউল দ্বারা এটিই বোঝানো হয়েছে। বান্দা আমার ব্যাপারে যা ধারনা রাখে, আমি তার সাথে তাই করি। হ্যাঁ। এটিই সত্য। এটিই বাস্তব। আল্লাহ তা-ই করেন। আশাবাদী হতে বলা হয়েছে। নিরাশার কোন চিহ্ণ‎ ইসলামে নেই। আশাবাদ মানুষকে সামনে টেনে নেয়। অগ্রসর হতে উদ্বুদ্ধ করে। ক্লান্তি-অবসাদকে স্বাভাবিক করে তোলে। তাই কর্মজীবেনর প্রথম কথা হোক ইখলাস ও আশাবাদ।

২. আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয়

আত্মবিশ্বাস এক শক্তি। অপ্রতিরোধ্য শক্তি। মানুষকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে তৎপর করে তোলে। প্রেরণা যোগায়। কাজে আকর্ষণ তৈরী করে। আত্মবিশ্বাস সফলতার অর্ধেক। বিশ্বাসীরা গায়-একবার না পারিলে দেখ শতবার। আর জীবনকে আনন্দ ও সৌভাগ্যের মনে করবে। হৃদয় দিয়ে উপভোগ করবে। জীবন। জীবনের সবকিছু। আনন্দের ছোট ছোট উপলক্ষগুলোও। দায়িত্ব আদায়ের মাধ্যমে। সুদৃঢ় প্রত্যয়ে, প্রফুল্ল চিত্তে কাজ করে। এতে কাজের আগ্রহ টাটকা থাকবে। কর্মচঞ্চলতা অটুট থাকবে। স্বপ্নগুলো থাকবে সজীব, সতেজ। কষ্ট-ক্লেশ, বাধা-বিপত্তি তুচ্ছ মনে হবে। তাই আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয় হল কর্মমুখর জীবনের আবেহায়াত।

৩. ব্যর্থতা, নবোদ্যমে জেগে ওঠার উপলক্ষ

কর্মজীবন একটি দীর্ঘ পথ। কণ্টকাকীর্ণ। বন্ধুর। আছে তিক্ততা। তিক্ত অভিজ্ঞতা। পদে পদে ব্যর্থতার স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। এ ছাড়া খুব কম মানুষই কর্মজীবনে সফল হয়েছে। সংগ্রাম করতে হবে। মুকাবিলা করতে হবে। অবিরাম চেষ্টা-সাধনায় জমে থাকতে হবে। তবেই সফলতা আর মর্যাদার পথ সুগম হতে থাকবে। পর্যালোচনা করে ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সতর্ক হতে হবে। ভবিষ্যতে ব্যর্থতার বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। ব্যর্থতা যদি হয় নবোদ্যমে জেগে ওঠার উপলক্ষ, তাহলে সফলতা একদিন না একদিন ললাট চুম্বন করবেই।

৪. সমালোচক আমার উপকারী!

সমালোচনা। অবিচ্ছেদ্য অংশ। কর্মজীবনের। মানবজীবনের। কর্মঠলোকের সমালোচনা থাকেই। সমালোচনা নেই নিষ্কর্মার। যৌক্তিক হলে অবশ্যই তা উপকারী। উদ্বুদ্ধকারী। সমালোচকের শোকর করা উচিৎ। তিনি শুধরে দিয়েছেন। সহায়তা করেছেন। ত্রুটি থেকে বাঁচতে। ত্রুটিমুক্ত কাজ করতে। আর যদি সমালোচনা হয় হিংসার কারণে। মূর্খতার কারণে। তবে জাহিলদের এড়িয়ে চলবে। বরং কাজের গতি বাড়িয়ে দিবে। সব কথা শুনতে নেই। সমালোচক আমার উপকারী। হয়ত ভুলমুক্ত হতে সহায়তা করে। কিংবা কাজে উদ্বুদ্ধ করে।

৫. কর্মজীবন হাতে-কলমে শেখার, সংগ্রামের, সূচনা প্রথম দিন থেকেই

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর কর্মজীবন থেকে শিক্ষা। ভিন্ন বিষয়। বিস্তর তফাৎ। তাই কর্মজীবন হবে বাস্তব শিক্ষার। মুতালাআ ও অধ্যবসায়ের। নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিক অন্বেষার। পাশাপাশি ঋদ্ধ হবে অভিজ্ঞতায়। কর্মজীবনের বিচিত্র ঘটনাপ্রবাহ থেকে। বিভিন্ন পরিবেশ-পরিস্থিতি থেকে। ভুল-শুদ্ধ, প্রাপ্তি-বঞ্চনা, নিন্দা-প্রশংসা, তিরস্কার ও পুরষ্কার থেকে। এসব দ্বারাই অভিজ্ঞতা আর দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায়। অনেকে ভাবে- যারা সফল হয়েছেন, তারা যাদু জানতেন। যাদুর কাঠির স্পর্শে তারা মাটিকেও পরিণত করতে পারতেন সোনায়। আল্লাহ তাদের অতিমানবীয় বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। এসবই ভুল, ভ্রান্ত চিন্তা। পিছিয়ে পড়ার কল্পনা। বরং সফলগণ তো ব্যর্থতার পর সংগ্রাম করেই সফল হয়েছেন।

(عشر وصايا للنجاح في الحياة العملية للدكتور علي أحمد এর ছায়া অবলম্বনে।)

Facebook Comments

Leave a Reply